বাংলাদেশের চিত্রকলা : প্রসঙ্গ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য ধারা
প্রসঙ্গ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য ধারা
DOI:
https://doi.org/10.59185/jurpc.v35i1.106Abstract
বাংলার চিত্রকলা প্রাচ্য ধারায়ই সুদীর্ঘকাল চলে আসছিল ব্রিটিশ শাসনের ঔপনিবেশিক প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পশিক্ষার পরিবেশ ও অন্যান্য বাস্তবতা আরোপিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত৷ অজন্তার চিত্ররীতি এ দেশের প্রাচীন ও মধ্যযুগের চিত্রকলার চর্চায় দুর্লভ নয়৷ সেই সঙ্গে লোকায়ত কিছু উপাদান, অনুষঙ্গ ও শৈলীকে তা গ্রহণ করেছিল৷ মুসলিম সংস্কৃতিকে, বিশেষত পারস্য সংস্কৃতিকে যদি প্রাচ্য ধারার সংস্কৃতি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে এবং দূরপ্রাচ্যের দেশ চীন ও জাপানের চিত্রকলার চর্চার রীতিপদ্ধতিকে বিবেচনায় নেওয়া হয়, তাহলে ইতিহাসের বিরাট কালপর্ব জুড়ে দেখতে পাওয়া যায় এ দেশের চিত্রকলা একান্তই বিকাশ লাভ করেছে পরিপ্রেক্ষিতযুক্ত এবং ব্যক্তিনিরপক্ষ সামান্য লক্ষণকে আয়ত্ত করে৷ ঔপনিবেশিক কালপর্বের বিরাট ধাক্কায় এককালে আবার সে সমস্তই চিত্রাদর্শ হিসেবে বাতিল হয়ে গিয়েছিল৷ তবে শীঘ্রই এই অভিঘাতকে মোকাবিলার উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষে প্রাচ্যকলার পুনর্জাগরণ ঘটে এবং স্বাধীনতার পূর্বাপর বাংলাদেশের চিত্রশিল্পীদের তা প্রভাবিত করে৷ কিন্তু প্রাচ্য ধারার শিল্পচিন্তার পাশাপাশি আধুনিক মননের ও নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার যুগোপযোগী পাশ্চাত্য চেতনার চিত্রবিদ্যা ও নন্দনতাত্ত্বিক ধারার চিত্রকলাও অপরিহার্য ও অপ্রতিহত প্রভাব রাখে৷ ফলে বাংলাদেশের চিত্রকলায় দুটি স্পষ্ট প্রবাহ সমান্তরালে চলমান থাকে৷ বাংলাদেশের চিত্রসাধনার আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য―এ দুই ধরনের চিত্রবোধ ও আদর্শের দিক থেকেই বিবেচ্য হওয়ার দাবি রাখে৷ কখনো কখনো এ দুই ধারার মধ্যে সমন্বয় ঘটে আবার কখনো কখনো পরস্পর পরস্পরের থেকে দূরবর্তী প্রবাহ নিয়ে বয়ে যেতে থাকে৷ একটিকে ছাড়া আরেকটি তা না হলে অপূর্ণাঙ্গ থেকে যায়; যেহেতু প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য চিত্রকলা এ দেশের চিত্রকলাকে প্রবলভাবে প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রিত করে থাকে৷