জাতীয় নাট্য আঙ্গিক ও ঢাকা থিয়েটার
DOI:
https://doi.org/10.59185/jurpc.v35i1.107Abstract
মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান ধারা নাটক যে সমৃদ্ধি অর্জন করেছে, ঢাকা থিয়েটার সেখানে রেখেছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা৷ যদিও মৌলিক নাট্য ও জাতীয় নাট্য আঙ্গিক নির্মাণের অভিপ্রায়ে ঢাকা থিয়েটারের যাত্রা শুরু, তবুও সূচনাপর্বের নাটকে দলটি পাশ্চাত্যের রীতিকেই মান্য করেছিল৷ তবে অচিরেই ঢাকা থিয়েটার যেন তার গন্তব্যের ইশারা সুনির্দিষ্ট করার পথে অগ্রসর হয়৷ শুধু যে আঙ্গিক গঠনেই নিরীক্ষা চালু ছিল তা নয়, অভিনয়রীতির দেশজধারার পুনঃসৃজনের বিষয়টিতেও গভীর মনোযোগ ঢাকা থিয়েটারের ছিল এবং দলটির অভিনয়শিল্পীদের অভিনয়শৈলী প্রাচ্য দেশীয় অভিনয় রীতির গীতল ও কাব্যিক বৈশিষ্ট্যকেই ধারণ করেছে৷ চরিত্র ও বর্ণনাকারীর অভেদাত্মক রূপ দেখতে যাওয়া যায়৷ নিরন্তর সন্ধানে অচিরেই ঢাকা থিয়েটার পেয়ে যায় নতুন নাট্যাঙ্গিক, ‘কথানাট্য’৷ এ ধারায় ঢাকা থিয়েটারে প্রধান নাট্যকার সেলিম আল দীনের তিনটি রচনা চাকা, যৈবতী কন্যার মন ও হরগজ৷ মধুপুর অঞ্চলের ¶য়িষ্ণু নৃগোষ্ঠী সর্বপ্রাণবাদী মান্দাইদের জীবন, সংস্কৃতি, বেদনা, সংগ্রাম আর সংখ্যাগরিষ্ঠের অহমিকায় চালানো বাঙালির নিপীড়নকে উপজীব্য করে রচিত হয় বনপাংশুল৷ ঢাকা থিয়েটার এ ভূখণ্ডের রোদে-জলে বেড়ে ওঠা অন্য জাতি-গোষ্ঠীদের সংস্কৃতি ও তাদের বঞ্চনাকেও তুলে এনেছে মঞ্চের আলো আঁধারির মায়ায়৷ যার বিস্তার দেখা যায় বনপাংশুল নাট্যে৷ পাঁচালির গড়নে রচিত এ নাট্যের শরীর এবং এরপর ঢাকা থিয়েটার মঞ্চে আনে ধাবমান৷ বর্ণনাত্মক বাংলা নাটকের পূর্ণাঙ্গ রূপের প্রকাশ এই নাট্য৷ তা রচনা থেকে শুরু করে নির্দেশনা, মঞ্চ, অভিনয় সবকিছুকেই একাঙ্গে প্রকাশ করছে৷ ঢাকা থিয়েটারের এই যে চর্চা, তার প্রেরণা আজ সারা দেশে এমন কী দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও দেখতে পাওয়া যায় সেই সুস্পষ্ট ছাপ৷ ফলে বৃহত্তর মানুষের চর্চার মধ্যদিয়ে এক অর্থে এই ধারা জাতীয় অভিজ্ঞানের রূপই পরিগ্রহ করে বলে দাবি করা যায়৷ এই বিষয়টিই অত্র প্রবন্ধে আলোকপাত করার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে ৷