মাতৃভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন
প্রসঙ্গ দিনাজপুর
DOI:
https://doi.org/10.59185/jurpc.v36i2.373Abstract
স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ভাষা আন্দোলন ছিল প্রথম মাইল
ফলক। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠার এ আন্দোলন ছিল পাকিস্তানী শাসন
ও শোষণের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার সংঘটিত প্রথম প্রতিরোধ আন্দোলন। দ্বিজাতিতত্ত্বের
খোলসে আর তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির বাস্তবতায় সৃষ্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রে মুসলিম
লীগ সরকার এবং তাদের তল্পিবাহকদের ধর্মাচ্ছন্ন, গোঁড়া ও পশ্চাদমুখী চিন্তা-চেতনার
বিপরীতে অসাম্প্রদায়িক, উদার এবং প্রগতিশীল চেতনার ধারার উন্মেষ ও জাগরণ ঘটিয়ে
ভাষা-আন্দোলন সৃষ্টি করে এক নব-উদ্দীপনা। এর মাধ্যমে পূর্ব বাংলার সচেতন ছাত্রজনতা যে ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হয় তা পরবর্তী আন্দোলনসংগ্রামের মাধ্যমে তাদের পৌঁছে দেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কাঙ্খিত
লক্ষ্যে। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত প্রথমে সচেতন বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক মহলে
ঘটলেও পরে তা পূর্ব বাংলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এরই
ধারাবাহিকতায় আন্দোলন-সংগ্রামের উর্বর ভূমি নামে খ্যাত দিনাজপুরেও তার প্রভাব
পড়ে ভীষণ ভাবে। এতে কৃষক নেতা হাজী মোহাম্মদ দানেশসহ প্রবীণ রাজনীতিবদিগণ
যেমন অবদান রাখেন তেমনি ছাত্র ও যুবনেতা মোহাম্মদ দবিরুল ইসলাম, নূরল হুদা
মির্জা ছোটি সহ অনেক তরুণ নেতা-কর্মী পালন করে ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
ভাষা আন্দোলন প্রথম দিকে দিনাজপুর শহরের ছাত্র যুবক, প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মী
ও বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বায়ান্নতে শহর- গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ তাতে
অংশগ্রহণ করেন। ১৯৪৮ সালে প্রধানত দিনাজপুরের সুরেন্দ্রনাথ কলেজ ও বিভিন্ন
স্কুলের মধ্যে এবং পরবর্তীকালে ১৯৫২’র ভাষা-আন্দোলন দিনাজপুরের মহকুমা
ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় সহ বিভিন্ন থানার গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে। ভাষা-আন্দোলনে
দিনাজপুরের ভূমিকা ছিল সুসংগঠিত এবং আঞ্চলিক জেলা শহর থেকে অনেকটা
অগ্রগামী। এর অন্যতম কারণ ছিল ঢাকা কেন্দ্রিক আন্দোলনের সঙ্গে বিভিন্ন সংগঠনকে
সম্পৃক্ত করে দিনাজপুরের ছাত্রনেতাদের নেতৃত্ব প্রদান,যারা ঢাকা ও দিনাজপুরের ভাষা
আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন