আলকাপ গানের পরিবেশনায় সমাজ ভাবনার প্রতিফলন
DOI:
https://doi.org/10.59185/jurpc.v36i2.376Abstract
আলকাপ বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলের লোক-ঐতিহ্যের একটি ধারা।
বাংলাদেশের রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহ
অঞ্চলে এ গানের প্রচলন বেশি। আলকাপ একটি দলীয় ও মিশ্র প্রকৃতির সঙ্গীত প্রদর্শন।
এতে নাচ, গান, কথা, ছড়া ইত্যাদির মিশ্রণ আছে। আলকাপের উৎপত্তি সম্পর্কে নানা
মতভেদ রয়েছে। সেই মতভেদের বিভিন্ন পর্যায়ে কেউ কেউ মনে করেন, আলকাপের সৃষ্টি
গম্ভীরা থেকে। যদিও অনেক গবেষক আলকাপকে গম্ভীরার পূর্ববর্তী বলেও উল্লেখ
করেছেন। তবে উৎপত্তির বিচারে আলকাপের অবস্থান যেখানেই থাকুক ঐতিহ্যবাহী
আঙ্গিক হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের সকল শ্রেণীর মানুষের কাছে জনপ্রিয়।
চৈত্রসংক্রান্তি কিংবা অন্যান্য সময়ের বিভিন্ন পূজা-পার্বণ উপলক্ষে আলকাপের পরিবেশনার
প্রচলন থাকলেও বর্তমানে বিভিন্ন উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠানেও আলকাপ দেখা যায়।
আলকাপের মূল আকর্ষণ ছোকড়া নাচ ও গান। যাত্রা পদ্ধতির সংলাপ, গান আর অভিনয়ের
মাঝে মাঝে দর্শকদের বিশ্রাম ও আনন্দ দেয়ার জন্য ছোকরারা নটীবেশে আসরে প্রবেশ
করে। সুদর্শন বালকদের তালিম দিয়ে ছোকরা বানানো হয়। তারা খেমটা ও ঝুমুর জাতীয়
নাচ-গানে বেশ দক্ষ। গ্রামের তরুণ ও যুবকদের মধ্যে ছোকরারা এক ধরনের মাদকতা
এনে দেয়। অন্যদিকে সঙদাররা ভাঁড়ামির মাধ্যমে লঘু হাস্যরস পরিবেশন করে দর্শকদের
আনন্দ দিয়ে থাকে। বিনোদনের পাশাপাশি নানা অসঙ্গতি তুলে ধরে বিভিন্ন শ্রেণীর
মানুষকে দিক নির্দেশনা প্রদান করে সমাজের দর্পণরূপে লোকসমাজের শ্রমজীবি মানুষের
অন্তর্গত অনুভূতির ব্যাখ্যা করে। অথচ বর্তমান প্রেক্ষাপটে আলকাপ গানের পরিবেশনা খুব
বেশী দেখা যায় না। আলকাপ গানের বিভিন্ন গবেষণায় এর বিষয়-বৈচিত্র, আঙ্গিক,
পরিবেশনারীতির নানাদিক তুলে ধরা হলেও লোকসমাজে এর কতটা প্রভাব এবং আলকাপ
গানের পরিবেশনায় সমাজচিন্তার প্রতিফলন কতটা স্বার্থকরূপে চিত্রায়িত তা যেন অজানায়
থেকে যায়। ক্ষেত্র সমীক্ষণ পদ্ধতি অনুসৃত বক্ষমান গবেষণায় মাঠ পর্যায়ে আলকাপ
গানের বিভিন্ন দলের পরিবেশনা পর্যবেক্ষণ ও শিল্পীদের সাক্ষাতকার গ্রহণের মাধ্যমে সমাজ
জীবনে আলকাপ গানের প্রভাব ও গুরুত্ব অন্বেষন করা হয়েছে। গবেষণায় আলোর
প্রাদপ্রদীপের নীচে অন্ধকারের ন্যায় থাকা আলকাপ গানে সমাজ ভাবনার প্রতিফলনের
নানাদিক তুলে ধরা গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য।