সেলিম আল দীনের বর্ণনাত্মক রীতির কাহিনি সমাপনের নাট্যঅঙ্গ
অন্তিমভটিমা
DOI:
https://doi.org/10.59185/jurpc.v36i2.379Keywords:
অন্তিমভটিমা, পরিশিষ্ট, ইতি, অন্তপর্ব, স্বস্তিবচন, স্বস্তিসংগীতAbstract
বাংলা নাটক অনুশীলন ও প্রয়োগের সু-প্রাচীন ইতিহাস থাকলেও রচনার
কোন সুনির্দিষ্ট শাস্ত্র বা রূপরেখা বিষয়ক গ্রন্থ নেই। নাটকের উদ্ভব সংক্রান্ত একটি
বিভ্রান্তিকর প্রচলিত ইতিহাসকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
বাঙালির সভূমিজ নাট্য রচনারীতি বিকাশের মুখ্য প্রতিবন্ধকতা হলো লিয়েবেদেফের
(১৭৯৫) নাট্যচর্চাকে বাংলা নাটকের উৎসস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা। লিয়েবেদেফের
বেঙলি থিয়েটার কর্তৃক অভিনীত কাল্পনিক সংবদল কে উদ্ভব সংক্রান্ত উৎসসূচকতা নির্ণয়
করে বাংলা নাটকের বিভ্রান্তিমূলক ইতিহাসের প্রচল তৈরি হয়। এর সব চেয়ে বেশি প্রভাব
পড়ে বাংলা নাটকের রচনারীতি, চর্চা ও অনুশীলনে। ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনামলের
অষ্টাদশ শতাব্দীর অন্ত থেকে উনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত সময়কে সেলিম আল দীন বাংলা
নাটকের ‘মধ্যখ-ণ’ নামে চিহ্নিত করেছেন। উল্লিখিত মধ্যখ-ণ থেকে সেলিম আল দীনের
পূর্ব পর্যন্ত বাংলা নাটকের রচনারীতি ও নাট্য উপাদান বিচারে পাশ্চাত্য নাট্যরীতির
অনুবর্তী। কোন কোন নাটক সর্বাংশে আবার কোন কোন নাটক অংশ বিশেষে। আবার
সেলিম আল দীনের নাটক বাঙালির নাট্য উপাদানজাত গবেষণালব্ধ নাটক হলেও তিনি
রচনার পূর্ণাঙ্গ নাট্যশাস্ত্র রচনা করেননি। এক্ষেত্রে গবেষকদের অবলম্বনের মাধ্যম সেলিম
আল দীনের নাটক, নাট্যতত্ত্ব, সাক্ষাতকার, প্রবন্ধ ইত্যাদি বিষয়ের উপর। সেলিম আল
দীনের নাটক পরিলক্ষণ করে আধুনিক বর্ণনাত্মক নাটকের কাহিনি সমাপনের অঙ্গ হিসেবে
‘অন্তিমভটিমা’কে চিহ্নিত করা যায়। কোন কোন নাটকে তিনি সরাসরি অন্ত অংশকে
‘অন্তিমভটিমা’ পরিভাষা শিরোনামে রচিত করেছেন আবার কোন কোন নাটক ভিন্ন
শিরোনাম কিন্তু অন্তিমভটিমার লক্ষণযুক্ত। বক্ষ্যমাণ গবেষণাটি মুখ্য অভিপ্রায় সেলিম আল
দীনের বর্ণনাত্মক নাটকের কাহিনি সমাপনের অঙ্গ হিসেবে অন্তিমভটিমা প্রয়োগের
যৌক্তিক ভিত্তি অন্বেষণ।