সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা শহরের গ্যাস সিলিন্ডার ভিত্তিক অগ্নিকান্ডের ধরণ পর্যালোচনা
DOI:
https://doi.org/10.59185/juvps.v42i01.172Keywords:
অগ্নিকান্ড, গ্যাস সিলিন্ডার, বিষ্ফোরণ, ঢাকা শহর, স্থানিক বিন্যাসAbstract
গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের মতো মানবসৃষ্ট দুর্যোগের সংখ্যা বিশ্বব্যাপী বাড়ছে এবং বাংলাদেশ, বিশেষ করে ঢাকা শহরও এর ব্যতিক্রম নয়। ২০১০ সালের আগ পর্যন্ত ঢাকায় পাইপ লাইনের মাধ্যমে কল-কারখানা থেকে শুরু করে আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ দেয়া হতো। কিন্তু ২০১০ পরবর্তী সময়ে কর্তৃপক্ষ তা বন্ধ করে দেয়, যার ফলশ্রæতিতে গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার বেড়ে যায়। পরবর্তীতে প্রায় প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও সিলিন্ডার ভিত্তিক অগ্নিকাÐের খবর প্রচারিত হতে থাকে। কিন্তু বিস্ফোরণের এসব ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলেও এ সম্পর্কিত বিস্তারিত গবেষণালব্ধ জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে। তাই ভৌগোলিক বিভিন্ন গবেষণা পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে প্রাপ্ত ব্যবহারযোগ্য তথ্য বিশ্লেষণ করে এই মানবসৃষ্ট দুর্যোগের একটি বাস্তবচিত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে। এই গবেষণাটি সম্পাদন করতে ২০১৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সংবাদপত্র, সম্প্রচারমাধ্যম, অনলাইন উৎস এবং পোর্টাল থেকে সিলিন্ডার ভিত্তিক অগ্নিকাণ্ডের অবস্থান, বৈশিষ্ট্য এবং প্রভাবসমূহের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগ্রহীত তথ্যসমূহকে ভৌগোলিকভাবে বিশ্লেষণের লক্ষ্যে প্রথমে Google Earth Pro এবং পরে ArcMap 10.8 সফটওয়্যারের বিভিন্ন টুল (যেমন: Kernel Density Analysis) ব্যবহার করা হয়েছে। বিশ্লেষণ থেকে প্রাপ্ত গ্যাস সিলিন্ডার ভিত্তিক অগ্নিকাÐের ঘটনাসমূহের স্থানিক বিন্যাস, ঘটনাসমূহ সংঘটিত হওয়ার ঘনত্ব, সংঘটিত হওয়ার স্থানের ধরণ এবং এর প্রভাব থেকে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তর ধারণা পাওয়া যায়। সেই সাথে এটাও লক্ষ্যণীয় যে, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও মতিঝিলের মতো ঘনবসতিপ‚র্ণ আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটার প্রবণতাও বেশি। এসব ঘটনার প্রাথমিক কারণ গ্যাস লিক, অপর্যাপ্ত বাযুচলাচল এবং ত্রুটিযুক্ত সরঞ্জাম। গবেষণায় গ্যাস সিলিন্ডারের সাথে সম্পর্কিত ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য উন্নত সুরক্ষা ব্যবস্থা, নিযমিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির জরুরি প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই গবেষণায় ঢাকায় ঘটে যাওয়া গ্যাস সিলিন্ডার ভিত্তিক অগ্নিকান্ডের ভৌগোলিক প্রকৃতি সম্পর্কে মূল্যবান গবেষণা উপলব্ধি প্রদান করে, যা ভবিষ্যতে নগর পরিকল্পনা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কৌশলকে অবহিত করতে পারে যাতে এ ধরনের মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগের ঘটনা ও প্রভাব হ্রাস করা যায়।