আলতাদিঘি জাতীয় উদ্যানের ভূমি ব্যবহার ও ভূমি আচ্ছাদন পরিবর্তনে মানবসৃষ্ট কর্মকান্ডের প্রভাব (২০১৪-২০২৪)
DOI:
https://doi.org/10.59185/juvps.v43i02.273Keywords:
ভূমি ব্যবহার, ভূ-উপগ্রহ চিত্র, মানবিক চাপ, বন উজাড়, জীববৈচিত্র্যAbstract
ভূমি ব্যবহার ও ভূমি আচ্ছাদন পরিবর্তন পরিবেশ পর্যবেক্ষণের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সূচক, যা মানবসৃষ্ট কার্যকলাপ ও প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার প্রভাব বুঝতে সহায়তা করে। রিমোট সেন্সিং ও জিআইএস প্রযুক্তির মাধ্যমে এই পরিবর্তনগুলো সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব, যা পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আলতাদিঘি জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য সংরক্ষিত বনাঞ্চল, যা দেশের উত্তরাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই গবেষণায় ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আলতাদিঘি জাতীয় উদ্যানের ভূমি ব্যবহার ও ভূমি আচ্ছাদনের স্থানিক ও কালিক পরিবর্তন ভূ-উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং উদ্যানটির একটি বিস্তৃত ও বিক্ষিপ্ত শ্রেণিবিন্যাস উপস্থাপন করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে দীর্ঘমেয়াদী মানবসৃষ্ট কার্যকলাপের প্রতিক্রিয়া হিসেবে আলতাদিঘির ভূমি ব্যবহার ও ভূমি আচ্ছাদনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ২০১৪ সালে উদ্ভিদ আচ্ছাদন ছিল প্রধান শ্রেণি, যা মোট এলাকার ৭০.০৮% এরও বেশি জুড়ে ছিল, কিন্তু ২০২৪ সালে তা ৬৫.৭৮%-এ নেমে এসেছে এবং এতে ১৩.৭৮ হেক্টর নেট ক্ষতি হয়েছে, যা বনভূমির ক্রমাগত হ্রাসএবং তা বসতি, বাগান ও কৃষিজমিতে রূপান্তরের ইঙ্গিত দেয়। উন্মুক্ত জায়গা ১০.০৩ হেক্টর এবং বাগান শ্রেণি ৪.৮৭ হেক্টর বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাণিজ্যিক বাগানচাষ বা অ্যাগ্রোফরেস্ট্রির প্রবণতা প্রতিফলিত করে। এ ছাড়া, জলাশয় ১.২৯ হেক্টর বেড়েছে, যা ভূমি ব্যবহারের মধ্যবর্তী প্রাকৃতিক মৌসুমি পরিবর্তন বোঝায়, এবং কৃষিজমির পরিমাণও সামান্য বেড়েছে, যদিও বসতি এলাকা হ্রাস পেয়েছে, যা ভূমির চাষাবাদ বা খোলা জায়গা রূপান্তরের সম্ভাবনা নির্দেশ করে। এটি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে যে, মানুষের বসতি বিস্তার, কৃষিকাজ ও বাণিজ্যিক বাগান সম্প্রসারণের মতো কর্মকান্ড সরাসরি ভূমি ব্যবহার ও আচ্ছাদনের গতিশীলতায় প্রভাব ফেলছে, যা প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র উপর চাপ সৃষ্টি করছে। গবেষণাটি এই ইঙ্গিত দেয় যে, যদি এই পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত থাকে, তবে এটি উদ্যানের বাস্তুতন্ত্র, জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশগত সেবা ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ প্রেক্ষিতে, গবেষণাটি পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানিক পরিকল্পনা এবং জনসম্পৃক্ত অংশগ্রহণভিত্তিক টেকসই ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেছে।