বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পূর্বানুমান:
তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও নীতিমালা প্রণয়ন
DOI:
https://doi.org/10.59185/juvps.v43i02.275Keywords:
জলবায়ু পরিবর্তন, উপকূলীয় কৃষি, GIS, রিমোট সেন্সিং, জলবায়ু সহনশীলতাAbstract
জলবায়ু পরিবর্তন উপকূলীয় কৃষির জন্য এক ক্রমবর্ধমান সংকট, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো কৃষিনির্ভর দেশগুলোর জন্য যেখানে লাখো মানুষের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার, এবং বৃষ্টিপাতের অনিশ্চয়তা কৃষিজ উৎপাদনে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই গবেষণায় ভূস্থানিক তথ্যব্যবস্থা (GIS) ও রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তির মাধ্যমে উপকূলীয় কৃষির স্থানিক ও কালিক পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলা নির্বাচন করা হয়েছে, যা জলবায়ুগত পরিবর্তনের ফলে অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। WorldClim এর তথ্য ব্যবহার করে ACCESS-CM2 জলবায়ু মডেল এর মাধ্যমে ২০২১-২০৪০ সময়কালে জলবায়ুগত পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা হয়, যেখানে SSP126 (নিম্ন নির্গমন) এবং SSP585 (উচ্চ নির্গমন) দৃশ্যপট অন্তর্ভুক্ত করা হয়। MaxEnt মডেলের মাধ্যমে কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়, যা দেখায় যে উচ্চ নির্গমন দৃশ্যপটের অধীনে ২০৪০ সালের মধ্যে আমন ধানের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। বিদ্যমান কৃষি পদ্ধতি জলবায়ুর পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে উন্নত করা না হলে খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকা মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হবে। স্থানীয় কৃষকদের গৃহীত অভিযোজন কৌশল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বর্তমান কৃষি ব্যবস্থাকে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পুনর্গঠন না করলে খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ জীবিকা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। গবেষণায় প্রযুক্তিনির্ভর অভিযোজন কৌশলের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে, যেমন: জিআইএস-ভিত্তিক পূর্বাভাস ব্যবস্থা, জলবায়ু সহনশীল শস্য নির্বাচন এবং স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, যা জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব হ্রাসে সহায়ক হতে পারে। এই ফলাফলগুলো নীতি-নির্ধারকদের জন্য ভবিষ্যৎ জলবায়ু সহনশীল কৃষি নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করে।